Web
Analytics

অপুর জন্য কী করিনি আমি? এরপরও অপু কখনোই আমাকে স্বামীর সম্মান দেয়নি: শাকিব খান

গত ক’মাসে বিনোদন জগতে সবচেয়ে বেশি খবরের শিরোনাম হয়েছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান এবং অপু বিশ্বাস দম্পতি। একটি বেসরকারি টিভিতে লাইভে এসে নিজের স্বামী সন্তান নিয়ে মুখ খোলার পর থেকে যে বিতর্কের সূত্রপাত, সর্বশেষ শাকিবের ডিভোর্স লেটার পাঠানো পর্যন্ত আলোচনা সমালোচনা চলছেই। শেষ পর্যন্ত কোনোভাবেই টেকানো গেল না শাকিব-অপুর সংসার। কিন্তু কেন এই ডিভোর্স? চিত্রনায়ক শাকিব খান অস্ট্রেলিয়া থেকে কথা বলেছেন রঙধনুর সঙ্গে। বলেছেন অনেক না বলা কথা…

‘এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো কোনো রুচি আর অবশিষ্ট নেই। এরপরও যেহেতু এখন সব শেষের পথে তাই কিছু বলতেই হয়। সহ্যের সীমা আছে, অপুর জন্য কী করিনি, সে আমাকে স্বামী হিসেবে কখনো মানেনি। স্বামীর প্রাপ্য সম্মাণ দেয়নি। ২০০৮ সালে বিয়ের পর ২০১০ সালে এক নায়কের সঙ্গে তাকে হাতেনাতে ধরার কথা তখন পত্রপত্রিকায় এসেছে। একজন স্ত্রীকে পরপুরুষের সঙ্গে অন্য অবস্থায় ধরে ফেলার পর কোনো স্বামী কি তা ক্ষমা করে। কিন্তু আমি করে দিয়েছিলাম। চেয়েছিলাম সুখে শান্তিতে ঘর করতে। তারপরেও সে নানাভাবে আমাকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে।

সর্বশেষ গত বছরের ১০ এপ্রিল আমার বিরুদ্ধে আমার সন্তানকে নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ অনুষ্ঠানে যাওয়া কি তার উচিত ছিল? সেদিন থেকে অবিরাম পত্রপত্রিকা আর টিভি চ্যানেল এবং ব্যক্তিগতভাবে সে আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই চলেছে। এটি কি ভালোবাসার নমুনা? তারপরেও আমি তার ও আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বার বার সব ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ১০ এপ্রিলের ঘটনার পরেও নিয়মিত তার বাসায় যেতাম, তার ও আমাদের সন্তানের খোঁজখবর নিতাম। মাসে যা ভরণ-পোষণ দরকার সবই দিচ্ছি। এত কিছুর পরেও সে কখনো আমাকে ঘিরে তার করা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য একবারও সরি বলেনি। সে শুধু আমাকেই অপমান করেনি। আমার বাবা-মাকেও অসম্মান করেছে।

সে যদি একবার সবার সামনে এর জন্য ক্ষমা চাইত আমি অবশ্যই সব ভুলে গিয়ে আবার ঘর সংসার শুরু করতাম। আমি বরাবরই চাই আমাদের মধ্যে যা হয়েছে তা ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ থাকুক। প্রতিটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই খুনসুটি কম বেশি থাকে। তাই বলে তা বাইরের মানুষকে জানিয়ে হাসির খোরাক তৈরি করা কেন? শুধু মানুষ হাসবে না, আমাদের বাচ্চা যখন বুঝতে শিখবে আর তার বাবা-মার সম্পর্কে এসব নেতিবাচক ঘটনা জানবে তখন তার মনে কি এর বিরূপ প্রভাব পড়বে না?

শাকিব দুঃখ করে বলেন, আমি চাইনি এভাবে আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাক। সন্তানের স্বার্থে সব ঠিক রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গত বছরের নভেম্বরে আমি যখন ছবির শুটিংয়ে দেশের বাইরে ছিলাম তখন সেই সুযোগে সে আমার বাচ্চাকে বাসায় কাজের মানুষের কাছে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে দেশের বাইরে চলে যায়। এমন খবরে সন্তানের জন্য চরম উৎকণ্ঠিত হয়ে দেশে এসে সন্তানকে উদ্ধারে নিকেতনে তার বাসায় ছুটে যাই। কারণ বন্ধ ঘরে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে বাচ্চাটির জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। বাসায় গেলে অনেক ডাকাডাকির পরেও কেউ দরজা খুলল না। উল্টো ভিতর থেকে আমাকে জানিয়ে দেওয়া হলো দরজায় তালা দিয়ে অপু চাবি নিয়ে চলে গেছে। এরপর বাবা হিসেবে আমি কেমন মানসিক যাতনায় ছিলাম তা কারও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এরপরও কিছু বলিনি। অপু ফিরে এসে এর জন্য আমার কাছে ক্ষমা তো চায়নি বরং আমার বিরুদ্ধে আবার বিষোদগার শুরু করে। এই অবস্থায় তাকে ডিভোর্স দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো পথ ছিল না।

২২ নভেম্বর বাধ্য হয়ে আইনজীবী মারফত ডিভোর্স লেটার পাঠাই। শাকিব বলেন, ঘটনা এখানেই শেষ নয়, এরপরও চাইছিলাম সে যদি ক্ষমা চায় তা হলে আমি নতুন করে চিন্তা ভাবনা করব। কিন্তু সেই সুযোগও সে আমাকে দেয়নি। বারবার বাচ্চাটি দেখার জন্য চেষ্টা করলেও সে আমাকে তা থেকে বঞ্চিত করে আসছে। বাচ্চার ভরণ-পোষণের জন্য মাসিক খরচ পাঠালে তাও ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। সম্পর্ক শুরুর পর থেকে কেন সে আমার সঙ্গে এমন অত্যাচার করে আসছে বুঝতে পারছি না। শিল্পী হিসেবে অন্য যে কোনো নায়িকার বিপরীতে আমি অভিনয় করতেই পারি। সেখানেও তার বাধা। এতসব যন্ত্রণা আমি আর কত সহ্য করব। মানুষ হিসেবে আমারও সহ্য আর ধৈর্যের সীমা আছে। এখন সে বাচ্চা দেখতে না দিয়ে আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার পথ বেছে নিয়েছে। আমি আর কিছু বলতে চাই না। মানুষ এসব ঘটনা দেখছে, জানছে। সবাই বিবেক দিয়ে তা উপলব্ধি করবে বলে আমার বিশ্বাস।