Web
Analytics

নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে দ. আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের সিরিজ জয়

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কখনোই সিরিজ জেতেনি ভারত। সেই ইতিহাস বদলাতেই বিরাট কোহলির নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিল ভারত। টেস্ট সিরিজে ধাক্কা খেলেও, ৪-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে সফরকারীরা। এরমধ্য দিয়ে প্রোটিয়াদের মাটিতে প্রথমবারের মতো কোন সিরিজ জিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল ভারত। ৬ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ষষ্ঠ ও শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার, সেঞ্চুরিয়নে।

চলমান দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ওয়ানডেতে রোহিত শর্মার স্কোরগুলো হচ্ছে, ২০, ১৫, ০, ৫। চার ওয়ানডে মিলিয়ে মোট করেছেন ৪০ রান! তাই মঙ্গলবার পোর্ট এলিজাবেথে সিরিজের পঞ্চম ওয়ানডেতে যেন পণ করেই নেমেছেন রোহিত- বড় রান না করে ফিরবেনই না। আর ৩০ বছর বয়সী এ ওপেনারের ১১৫ রানের ওপর ভর করেই ২৭৪ রান করে ভারত। জবাবে ৪২.২ ওভারে ২০১ রানেই গুটিয়ে যায় প্রোটিয়াদের ইনিংস। ম্যাচ সেরা হয়েছেন রোহিত শর্মা।

এদিন টসে জিতে সফরকারীদের প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই মারমুখী খেলতে থাকেন ভারতীয় দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা। তবে দলীয় ৪৮ রানের মাথায় কাগিসো রাবাদার বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ধাওয়ান। তার আগেই অবশ্য ৮টি চারে সাজিয়ে ২৩ বলে ৩৪ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে ফেলেন তিনি। এরপর অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও রোহিতের জুটিতে ভালোভাবেই এগিয়ে চলছিল ভারতের রানের চাকা। কিন্তু ম্যাচের ২৬তম ওভারের তৃতীয় বলে জেপি ডুমিনির সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয় দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কোহলিকে। এদিন মাত্র ৩৬ রানই করতে পেরেছেন তিনি। এরপর রান আউট হয়েছেন আজিঙ্কা রাহানেও (৮)।

 

তবে দলীয় ২৩৬ রানে রোহিত ফিরে গেলে দ্রুতই উইকেট হারাতে থাকে ভারত। এদিন অবশ্য ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৭তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন রোহিত। পরবর্তী ২ রান করতে আরো দুই উইকেট (হার্দিক পান্ডিয়া ও সুরেশ আয়ার) হারায় ভারত। ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনিও আউট হয়ে যান মাত্র ১৩ রানে। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান করেছে ভারত। ভুবনেশ্বর কুমার ১৯ রানে ও কুলদিপ যাদব ২ রানে অপরাজিত থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৫১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন লুনগি এনগিদি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক অ্যাইডেন মারকরাম ও হাশিম আমলার ব্যাটে ভালো সূচনা পায় স্বাগতিকরা। তবে দলীয় ৫২ রানে অধিনায়ক মারকরাম (৩২) আউট হয়ে গেলে হঠাৎ চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। হার্দিক পান্ডিয়ার এক ঝড়ো স্পেলে মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। জেপি ডুমিনি (১) ও এবি ডি ভিলিয়ার্সকে (৬) ফিরিয়ে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান পান্ডিয়া। ১২.৫ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৬৫ রান। এসময় ডেভিড মিলারকে সঙ্গে নিয়ে ৬২ রানের একটি জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন আমলা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার রান যখন ১২৭, তখনই শুরু হয় ভারতীয় দুই স্পিনারে তাণ্ডব। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া মিলারকে ব্যক্তিগত ৩৬ রানে ফেরান যুজবেন্দ্র চাহাল। এরপরের ইতিহাস শুধু চাহাল ও কুলদিপ যাদবের। এ দুই স্পিনারের ঘূর্ণিতে জয় থেকে ৭৪ রান দূরে থেকেই শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। তবে ওয়ানডে সিরিজে রান না পাওয়া আমলা এদিন ৭১ রানের দুর্দান্ত এ ইনিংস খেলেছেন। এছাড়া হেনরিক ক্লাসেন করেছেন ৩৯ রান। ৫৭ রান দিয়ে কুলদিপ নিয়েছেন ৪ উইকেট। এছাড়া দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন পান্ডিয়া ও চাহাল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

ভারত : ২৭৪/৭ (৫০ ওভার) (ধাওয়ান ৩৪, রোহিত ১১৫, কোহলি ৩৬, আয়ার ৩০; এনগিদি ৪/৫১, রাবাদা ১/৫৮)।

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০১ (৪২.২ ওভার) (আমলা ৭১, মারকরাম ৩২, মিলার ৩৬, ক্লাসেন ৩৯; পান্ডিয়া ২/৩০, কুলদিপ ৪/৫৭, চাহাল ২/৪৩)।

ফলাফল : ভারত ৭৩ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : রোহিত শর্মা।