Web
Analytics

রাজমিস্ত্রীর করা মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন শাকিব খান!

কিছুতেই যেন রাহুর গ্রাস কাটছে না ঢালিউড কিং শাকিব খানের। ব্যক্তিগত জীবন আর ক্যারিয়ারের নানা ঝামেলা এড়িয়ে ঠিক যখনই একটু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তখনই নতুন কোনো না কোনো বিপত্তির মুখে পড়ছেন। সর্বশেষ সাধারন এক রাজমিস্ত্রীর করা মামলায় ফেঁসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে শাকিবের। শাকিব খানের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে আলোচিত এই মামলায়।
ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালের অক্টোবরে চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার মানহানীর মামলা করেছে এক রাজমিস্ত্রী। তার নাম ইজাজুল মিয়া। তিনি বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্ধা। শাকিব খানের সাথে রাজনীতি সিনেমার পরিচালক ও প্র্রযোজককেও আসামী করা হয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাজনীতি সিনেমায় ‘রাজনীতি’ ছবির ২৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডের সময় ছবির নায়িকা অপু বিশ্বাসকে নিজের মোবাইল নম্বর দেন শাকিব খান। চলচ্চিত্রের নায়িকা অপু বিশ্বাস বলেন, ‘এভাবে বার বার আর কোনো দিন চলে যেতে দেব না আমার স্বপ্নের রাজকুমার’।

জবাবে নায়ক শাকিব খান বলেন, ‘আমিও তোমাকে আর ছেড়ে যাব না আমার রাজকুমারী’। অপু বিশ্বাস জানতে চান, ‘আমার ফেইসবুক আইডি যে “রাজকুমারী” তুমি তা জানলে কী করে’। জবাবে নায়ক শাকিব খান বলেন, ‘যেভাবে তুমি জান আমার মোবাইল নাম্বার ০১৭১৫… (২৯৫২২৬)।’
সেটি ছিল ইজাজুলের নম্বর। ছবিটি রিলিজের পর থেকেই শাকিব খান মনে করে ইজাজুলকে ফোনের পর ফোন দিতে শুরু করেন শাকিব ভক্তরা। এরমধ্যে নারীভক্তদের কলই বেশি আসছে ইজাজুলের কাছে। ছবি রিলিজের পর ৭ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহে ৪৩২টি কল আসে শাকিব খানকে সন্ধান করে।

শুধু তাই নয়, শাকিব খান নয় বলে দাবি করা হলেও যাছাই করতে খুলনা থেকে এক গৃহকর্মী চলে আসে ইজাজুলের বানিয়াচংয়ের বাড়িতে। এ নিয়ে বাবা-মা ও স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয় ইজাজুলের। তার সংসার ভাঙারও উপক্রম হয়। এরপরই মামলা করেন ইজাজুল।

সেই মামলায় ঢালিউড কিং শাকিব খানের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশে দিয়েছে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। বানিয়াচং উপজেলার অটোরিক্সা চালক ইজাজুল মিয়াকে হয়রানীর অভিযোগে শাকিব খানসহ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত প্রতারণা ও ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ মামলায় আজ বুধবার এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন আসার পরই মামলার পরবর্তী তারিখ নিধারণ করা হবে।

মামলা সম্পর্কে এর আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ আগেই জানিয়েছিলেন, মোবাইল নম্বরটি ব্যাপকভাব প্রচার হওয়ায় বাদীর দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় হয়েছে মোবাইল ফোন রিসিভ করতে। তাতে বাদী আর্থিকভাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ‘রাজনীতি’ ছবির প্রচার বন্ধের আবেদন জানিয়েছি। একই সঙ্গে প্রতারণা ও মানহানি করায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদনও জানিয়েছি। ’

অন্যদিকে মামলার ব্যাপারে শাকিব খান বিষয়টি প্রযোজক ও পরিচালকের বলে জানান। এদিকে পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস বলেছিলেন, ‘ইজাজুল মিয়ার প্রতি আমাদের দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছু বলার নেই। ছবির নির্মাণের সময় একটি বন্ধ নম্বর ব্যবহার করেছিলাম। কিন্তু সেটি এমন বিব্রতকর অবস্থার জন্ম দেবে ভাবতেও পারিনি। আমি প্রযোজক ও শাকিব খানের সঙ্গে কথা বলে আইনিভাবেই বিষয়টি মিটিয়ে নিতে চেষ্টা করব।’

অারো পড়ুন………..