Web
Analytics

শাকিব-অপু বিচ্ছেদ, কে দায়ী?

কথায় আছে, এক হাতে তালি বাজে না। মানে ভালো মন্দ যাই ঘটুক না কেন, তার অংশীদার কমপক্ষে দু’জন বা তার অধিক লোক। বিয়ে যেমন দু’জনের হাতকে মিলিত করে, তেমনি বিচ্ছেদের পিছনেও হাত থাকে দু’জনের। আবার তাদের সঙ্গে পিছন থেকে অন্যকেউও নাড়তে পারে কাঠি। কিন্তু ‘এক হাতে তালি বাজে না’ কথাটা মিথ্যা প্রমাণ করতে চাইছেন শাকিব খান, অপু বিশ্বাস এবং বুবলি! কিভাবে?

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। সাধারণ মানুষ এখন বিরক্ত তাদের এই বিচ্ছেদের খবর পড়তে পড়তে! চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এই বিচ্ছেদের জন্য দায়ী শাকিব, অপু এবং বুবলি। কিন্তু এটা মানতে নারাজ এই ত্রয়ী। শাকিব দোষ দিচ্ছেন অপুর। অপু দোষ দিচ্ছেন শাকিব এবং বুবলিকে। আবার বুবলি এ বিষয়ে চুপ থাকলেও, আকারে ইঙ্গিতে পুরো ঘটনার জন্য অপুকেই দায়ীকে করছেন।

আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে। অপু বিশ্বাস বলেন, আমি নই, বরং শাকিবই আমাকে বিয়ের পর থেকে অবহেলা করেছে। তার কাছে আমার শেষ একটি অনুরোধ ছিল সে যেন বুবলির সঙ্গে কাজ না করে। কারণ শাকিব আর বুবলির সম্পর্কে নানাজন নানা কথা আমাকে বলছিল। যা স্ত্রী হিসেবে আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। কিন্তু শাকিব আমার এই অনুরোধকে পাত্তা দেয়নি। তাই দু’জনের ইচ্ছাতে নয়, বরং শাকিবের একক সিদ্ধান্তে বৈবাহিক জীবনের পর্দা নামছে।

আর শাকিবের কথায় ‘সহ্যের সীমা আছে, অপুর জন্য কী করিনি, সে আমাকে স্বামী হিসেবে কখনো মানেনি। ২০০৮ সালে বিয়ের পর ২০১০ সালে এক নায়কের সঙ্গে তাকে হাতেনাতে ধরার কথা তখন পত্রপত্রিকায় এসেছে। একজন স্ত্রীকে পরপুরুষের সঙ্গে অন্য অবস্থায় ধরে ফেলার পর কোনো স্বামী কি তা ক্ষমা করে। কিন্তু আমি করে দিয়েছিলাম। চেয়েছিলাম সুখে শান্তিতে ঘর করতে। তারপরেও সে নানাভাবে আমাকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ১০ এপ্রিল আমার বিরুদ্ধে আমার সন্তানকে নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ অনুষ্ঠানে যাওয়া কি তার উচিত ছিল?

সেদিন থেকে অবিরাম পত্রপত্রিকা আর টিভি চ্যানেল এবং ব্যক্তিগতভাবে সে আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই চলেছে। এটি কি ভালোবাসার নমুনা? তারপরেও আমি তার ও আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বার বার সব ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এত কিছুর পরেও সে কখনো আমাকে ঘিরে তার করা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য একবারও সরি বলেনি। সে শুধু আমাকেই অপমান করেনি, আমার বাবা-মাকেও অসম্মান করেছে। সে যদি একবার সবার সামনে এর জন্য ক্ষমা চাইত আমি অবশ্যই সব ভুলে গিয়ে আবার ঘর সংসার শুরু করতাম। কিন্তু অপু ক্ষমা তো চায়নি বরং আমার বিরুদ্ধে আবার বিষোদগার শুরু করে। এই অবস্থায় তাকে ডিভোর্স দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো পথ ছিল না।’

কথা শুনে বোঝাই যাচ্ছে, বুবলির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য শাকিব পুরোপুরি অপুকেই দায়ী করছেন। অথচ শাকিব-অপুর সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় কিন্তু এই বুবলির জন্য। আট বছর সংসারের খবর গোপন রাখার পর হঠাত্ অপু বিশ্বাসকে তার স্বামী ও সন্তানের বাবার স্বীকৃতিতে টিভি লাইভে এসে কথা বলতে হয় শবনম বুবলির কারনে। বুবলির সাথে শাকিবের ঘনিষ্ঠতা মানতে পারেননি অপু বিশ্বাস। অপু তখন অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘গত এক বছর শাকিবকে ঠিকমতো কাছে পাননি তিনি। জয়ের জন্ম হওয়ার সময়টাতেও শাকিবকে কাছে পাইনি।

এ সময়টাতে শাকিব সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিল। আমার ছেড়ে দেওয়া দুটো ছবিতে বুবলিকে নিয়ে অভিনয় করেছে শাকিব। আমি তাকে বলেছি, অন্যকোনো নায়িকার সঙ্গে অভিনয় করো। নুসরাত ফারিয়া, কিংবা অন্যকোনো নায়িকা হলে তো আমার আপত্তি নেই। কয়েক দিন আগে বুবলি তার ফেসবুকে শাকিবের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে লেখে ‘ফ্যামিলি টাইম’। এটা আমি মেনে নিতে পারিনি। বুবলিকে ফোন করে গালি দিয়েছি। যেটা আমার ভুল ছিল। আমি বুবলিকে সরি বলেছি এইজন্য।’

শাকিব খান অবশ্য সে সময় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন তিশা-মীম বা কলকাতার নায়িকাদের সাথে আমি ছবি করলে কখনও অপুর সমস্যা হতো না। কিন্তু বুবলির সাথে কাজ করলেই যত সমস্যা। এই মেয়েটি কোনো একদিন শুটিং সেটে অপু বিশ্বাসের সাথে খুব বেয়াদবি করেছে বলে আমি শুনেছি। কিন্তু আমি দেখিনি। বুবলিও অস্বীকার করেছে। সেই থেকে বুবলিকে সহ্য করতে পারে না অপু বিশ্বাস। এটাকে আমি স্রেফ ছেলেমানুষিই বলবো।’

Opu Biswas1115

অপুর কথায় ভিলেন বুবলি। আর বুবলি কথা বলেছেন বেশ ভেবে চিন্তে। তিনি বলেন, ‌’আমি স্বভাবতই নিজের মতো থাকতে পছন্দ করি। কিন্তু যখন সেখানে আমার কিছু ইস্যু মানুষ নিয়ে আসে, তখন তো কিছু বলতে হয়। বাই দ্য ওয়ে, আমি প্রথমেই একটা জিনিস জানতে চাই, অপু বিশ্বাস এত দিনের আড়াল ভেঙে কেন এসব কথা বললেন? কই, এত দিন তো যাননি, কারও সামনে আসতে চাননি…কেন? অপু বিশ্বাস বলেছেন, তার সঙ্গে শাকিবের গত এক বছরের মতো কথা হয় না। এটা কি কোনো সম্পর্কের জন্য স্বাভাবিক? আসলে ‘রংবাজ’ ছবিতে আমার নাম দেখে তার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তিনি (অপু) চান না শাকিব-বুবলি একসঙ্গে কাজ করুক। তিনি শাকিবকে লোক মারফতে জানালেন, তাকে নিয়ে একটি ছবির নিউজ করাতে, না হয় আমাকে নিয়ে ছবির নিউজ অফ করাতে, নাহলে এটার শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি।

আজকে এখানে বুবলি না থেকে অন্য কেউ থাকতে পারত, যার সঙ্গে শাকিবের জুটি গড়ে উঠেছে। অপু বিশ্বাস যেটা আগের অনেক নায়িকার ক্ষেত্রে করতে দেননি, যা শাকিব নিজেই বলেছেন। কেন, রাজ্জাক স্যার-শাবানা ম্যাডাম, রাজ্জাক স্যার-ববিতা ম্যাডাম, রাজ্জাক স্যার-কবরী ম্যাডাম জুটি ছিলেন না? রিয়াজ ভাই-শাবনূর আপু, রিয়াজ ভাই-পূর্ণিমা আপু জুটি ছিলেন না? এমন তো অনেক উদাহরণ আছে। কিন্তু অপু বিশ্বাস তার বাইরে কোনো জুটি প্রতিষ্ঠিত হোক—এমনটি চাননি। যা-ই হোক, যে-কেউ ভিউয়ার হিসেবে যেকোনো মন্তব্য করতে পারেন সহজে। কিন্তু একমাত্র তারাই ভালো বলতে পারেন সবকিছু, যখন যারা যেসব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়। আর আমাকে নিয়ে কেউ যখন সারাক্ষণ কথা বলে, তখন আমার কিছু স্পষ্ট করার অধিকার আছে। আর আমি সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’

অপু দোষ চাপালেন শাকিবের ঘাড়ে। আবার দায়ী করলেন বুবলিকে। শাকিব বুবলিকে দোষ না দিয়ে বিচ্ছেদের জন্য পুরোপুরি দায়ী করলেন অপুকে। আর বুবলি নির্দোষ প্রমাণ করতে নিজের সাফাই গাইলেন। তাহলে এই বিচ্ছেদের জন্য দায়ীকে? পাঠক ও দর্শক, এটা মনে হয় আপনারাই ভালো বলতে পারবেন!