Web
Analytics

শাকিব বলেছিল, সন্তান নিলে সম্পর্ক থাকবে না : অপু বিশ্বাস

জনপ্রিয় মুখ অপু বিশ্বাস। চলচ্চিত্রের আসনটা পাকাপোক্ত ছিল তার। ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিবের সঙ্গে অনবদ্য জুটি। আবার সেই শাকিব খানের সঙ্গে বাস্তবে প্রেম, বিয়ে, সংসার এবং সবশেষ বিচ্ছেদ। তারপরও নিজেকে সামলে নিয়েছেন অপু। বলেছেন অনেক গোপন কথা-

বিবাহবিচ্ছেদ কী মেনে নিয়েছেন?
আর কোন উপায় আছে? আমি সংসারটাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি। সংসারজীবন এমন, যেখানে কোনো কাজে এক পক্ষ চেষ্টা করলে সফলতা আসে না। তাই মেনে না নেওয়ার তো কোনো কারণ দেখি না।

কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন?
দেখি কী করা যায়। দরকার হলে করব, না হলে নাই। এখন পরেরটা আগে বলে লাভ নাই। সবকিছু আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব। তবে এসব নিয়ে আর ভাবতে চাইছি না। এখন বিষয়গুলো নিয়ে বিরক্ত।

এক সাক্ষাৎকারে শাকিব খান বলেছিলেন, ‘সরি’ বললেই সংসার টিকে যেত। আপনি কী বলেন?
এটি একেবারেই অবাস্তব কথা। আট বছর নীরবে আমি সংসার করেছি। সংসারটা সুন্দর করে সাজিয়েছিলাম। তবে বাবু (জয়) গর্ভে আসার পর শেষের চার মাস আমি খুব কষ্ট করেছি। ঠিকমতো শুতে পারিনি, ঘুমাতে পারিনি, হাঁটতে পারিনি। পুরো সময়টাই কষ্ট করতে হয়েছে। সেটা না হয় বাদই দিলাম, বিয়ের আট বছর আমি আমার ব্যক্তিজীবন আর অভিনয়জীবনকে আলাদা রেখেছিলাম, যাতে সংসার ও শুটিংয়ে এর কোনো প্রভাব না পড়ে। এত কিছু করার পরও যদি এখন বলা হয় ‘সরি’ বললেই ঠিক হয়ে যেত, সেটা খুবই হাস্যকর বিষয়। শুধু তাই-ই নয়, দেনমোহর নিয়েও শাকিব একটি মিথ্যা কথা বলেছে। দেনমোহর নাকি ৭ লাখ ১ টাকা।

তাহলে দেনমোহরের পরিমাণ কত?
১ কোটি ৭ লাখ ১ টাকা দেনমোহর। কাবিননামা শাকিবের কাছে। আমার কাছে কাবিননামার কপি থাকলে দেখাতে পারতাম। আর কাবিননামাটা যে এখন দরকার হবে, তা আগে বুঝিনি। কারণ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে মাথায়ই আসেনি। কিছু হলেও তো লেখাপড়া জানি। আমি নিজ চোখেই দেখেছি কাবিননামা ১ কোটি ৭ লাখ ১ টাকা।

কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের পর দেনমোহরের টাকা আপনার ফেরত পাওয়ার কথা। এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কি শাকিবের পক্ষের কারও আলোচনা হয়েছে?
না, এ ব্যাপারে কারও সঙ্গে আমার কথা হয়নি। তবে কাবিননামার কোনো টাকাই আমাকে দিতে হবে না। এসব নিয়ে যুদ্ধ করার আর দরকার নেই। আমি দর্শকের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতেই খুশি। আর পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে ভালোবাসার জিনিস আমার সন্তান আব্রাম খান জয়। এমনকি জয়ের ভরণ-পোষণও শাকিবকে দিতে হবে না।

কিন্তু আইন অনুযায়ী ভরণ-পোষণ সন্তানের বাবা দিয়ে থাকেন?
দিলেও তো আমি এখন আর নেব না। বেশ কিছুদিন ধরে আমি সন্তানের খরচ শাকিবের কাছ থেকে নিই না। নিতেও চাই না। শুধু টাকাপয়সা দিলেই সন্তানের বাবা হওয়া যায় না। আমি কাজ করে, শ্রম দিয়ে টাকা রোজগাড় করে নিজের সন্তানকে বড় করতে চাই। শিগগিরই এই সিদ্ধান্তগুলো আমি আইনজীবীর মাধ্যমে শাকিব খানের কাছে পৌঁছে দেব।

আইনগতভাবে একটা সময় ভাগাভাগি করে বাবা শাকিব খানের কাছেও জয়কে থাকতে দিতে হবে।
না, আমার সন্তানকে আমি তাঁর বাবার কাছে নিরাপদ মনে করি না। কারণ এই সন্তানের কারণেই আমাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। সন্তান যখন আমার গর্ভে আসে, তখন শাকিব বলেছিল, সন্তান নিলে সম্পর্ক থাকবে না আর না নিলে থাকবে। সেই সময় শাকিবের কথায় আমি গুরুত্ব দিইনি। ভেবেছিলাম মজা করে বলছে সে। তা ছাড়া আমি তো একটা মেয়ে, দিন শেষে আমি একজন মা। তাই জেদ করেই সেই সময় আমি সন্তান নিয়েছি। কিন্তু এই সন্তান নেওয়ার কারণেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। তাই সন্তানকে আমার মতোই গড়তে চাই। বড় হয়ে সবকিছু জেনে যদি জয় ওর বাবার কাছে যেতে চায়, যাবে। আমি বাধা দেব না।

এখন দুটি পথ তো আলাদা হয়ে গেল। নিজেকে কীভাবে দেখতে চান?
এখন আমার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান আমার সন্তান ও কাজ। সন্তানকে গড়ে তোলার পাশাপাশি কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চাই। সন্তানকে নিয়ে বাকি পথ চলবো। অনেকটা একলা চলার মতো।

বেশ কিছুদিন ধরেই কাজে ফেরার কথা শোনা যাচ্ছে। কবে থেকে শুরু করবেন?
মা হওয়ার পর ওজন বেড়ে বেশ মুটিয়ে গিয়েছিলাম। এখন অনেকটাই কমেছে। আরও কমাতে হবে। নিয়ম মাফিক খাওয়া-দাওয়া, ব্যায়াম করছি। কাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরও মাস দেড়েক লাগবে।

কয়েকটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। শুটিং শুরু কবে?
ওপারে চন্দ্রাবতী, কানাগলি, শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২-এই তিনটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই কাজগুলো করব। কানাগলি ছবিতে আগে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। তাই এই ছবি দিয়েই সিনেমার কাজ শুরু করতে চাই। আশা করছি আগামী মাসের শেষের দিকে শুটিং শুরু করতে পারব।