Web
Analytics

সিনেমার কাহিনীকে হার মানানো শাকিব-অপুর প্রেমের গল্প। বন্ধুত্বে শুরু, প্রেম-বিয়ে-সন্তানের পর ডিভোর্সে শেষ

গত ২২ নভেম্বর অপু বিশ্বাসকে তালাকের নোটিশ পাঠান শাকিব। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি অপুকে পাঠানো শাকিবের তালাক নোটিশের ৯০ দিন পূরণ হচ্ছে। এর মধ্যে দু’জনের সমঝোতা না হলে বিধি মোতাবেক ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যাবে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশেনের সালিশী বৈঠকের প্রথমটিতে অপু হাজির হলেও শাকিব ছিলেন অনুপস্থিত। অন্যদিকে শাকিব গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট জানিয়ে দেন অপুর সঙ্গে সংসার করার ইচ্ছে নেই তার। আজ ১২ ফেব্রুয়ারি সিটি কর্পোরেশনের বৈঠকের দ্বিতীয় তারিখ ছিল। অপু সেখানে যাননি। ডিভোর্স প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স মেনে নেয়ার কথা জানান অপু। তাদের গল্প যেন সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। পেছন ফিরে তাকিয়ে চলুন দেখে নেয়া যাক শাকিব খান আর অপু বিশ্বাসের ফেলে আসা দিনগুলো।

শাকিব-অপুর প্রথম দেখার গল্প
আট বছরেরও বেশি সময় আগের কথা, শাকিব তখন ঢাকাই ছবির ব্যস্ত নায়ক। আর অপু তখনো শুধুই দর্শক। নাচের অনুষ্ঠান করতে বগুড়া থেকে মাঝেমধ্যে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় আসতেন অপু। কাজ শেষে আবার ফিরে যেতেন বগুড়ায়। ২০০৭ সালে এফ আই মানিকের ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান অপু বিশ্বাস। তখনো অপু জানতেন না, ছবিটিতে তাঁর সহশিল্পী তাঁরই প্রিয় নায়ক শাকিব খান! মায়ের পছন্দের নায়ক রাজ্জাক ছবিটিতে কাজ করছেন জেনে সানন্দে রাজি হয়ে যান অপু। ছবির সেটে শাকিবের সঙ্গে অপুর প্রথম দেখা হয়।
সম্প্রতি শাকিবের সঙ্গে প্রথম দেখার সেই গল্প শোনালেন অপু। বললেন, ‘আমি তখনো স্কুলের ছাত্রী। শাকিব খানের “সুভা” ছবিটি দেখি। এই ছবিতে নায়ক শাকিব খানকে দেখে বেশ ভালো লাগে। এরপর “আমার স্বপ্ন তুমি” ছবিটি দেখে শাকিব খানের ভক্ত হয়ে যাই। তখনো ভাবিনি তাঁর সঙ্গে অভিনয় করা হবে। অবশেষে “কোটি টাকার কাবিন” ছবিটি সেই সুযোগ করে দেয়। প্রিয় নায়কের সঙ্গে অভিনয় করার সেই সময়কার অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব না।’
প্রথম দেখায় কী কথা হয়েছিল জানতে চাইলে অপু বললেন, ‘প্রথম দেখাতেই আমি তাঁকে সালাম দিই। ভাইয়া বলে ডাকি। কিছুদিন পর আমরা আউটডোর শুটিংয়ে ঢাকার বাইরে যাই। একটি রোমান্টিক গানের দৃশ্যধারণের কাজ করা হবে। কথা প্রসঙ্গে সে সময় শাকিব আমাকে বলে, “এই, আমাকে ভাইয়া বলে ডাকবে না। হয় শাকিব বলে ডাকবে, না হয় আমার একটা ডাকনাম আছে রানা, সে নামেই ডাকবে। আমার পরিবার এবং খুব কাছের মানুষেরাই আমাকে রানা নামে ডাকে। তাই তুমি আমাকে রানা নামেই ডাকবে।” সেই থেকে শুরু। কখনো শাকিব, কখনো রানা নামে তাকে ডাকি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের কাজের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বলা যায়, আমার প্রায় সব ছবির নায়কই শাকিব খান। আমাদের দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াটাও চমৎকার।’

ভালোবাসি হয়নি বলা, তবুও ভালোবাসি
রুপালি পর্দায় শাকিব অপুর একসঙ্গে পথচলা শুরু ২০০৬ সাল থেকেই। ওই বছর তারা জুটি বেঁধে কাজ করেন এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে। প্রথম ছবিতেই এই জুটির বাজিমাত। ছবিটির সফলতা তাদের ঢালিউডে সফল জুটির আসন গড়ে দেয়। তারপর একাধারে একসঙ্গে পথচলা। মানে স্থায়ী জুটির তকমা পেয়ে যান তারা। একসঙ্গে জনপ্রিয় জুটিও হয়ে ওঠেন তারা। শাকিব-অপুর ছবি মানেই নির্মাতার ভরসা, দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা। এই পর্দা জুটি যখন পর্দার প্রেম নিয়ে এমনই সফলতায় ভাসছিলেন তখন সেই ভালোবাসার রং তাদের মনেও এসে লাগে। যতই রুপালি পর্দায় হাঁটা ততই ভালোবাসার রংধনু দুজনের মনকে আরও রাঙিয়ে তুলতে শুরু করে। কে কাকে আগে ভালোবাসার কথা বলেছিলেন। এমন প্রশ্নে চোখেমুখে লজ্জার আবির মেখে অপু বিশ্বাস বলেন, আমি তাকে ভালোবাসলেও তা বলতে পারছিলাম না। অপেক্ষায় প্রহর গুনতাম কখন সে আমাকে আমার সবচেয়ে ভালোলাগার কথাটি শোনাবে।

এ বাঁধন কখনো যাবে না ছিঁড়ে!
অপুর কাছ থেকেই জানা যায় ভালোবাসাবাসি শুরুর সেই গল্প। অপু দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করেন কীভাবে শাকিব তাকে প্রপোজ করেন। ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল। আমরা দুজন সারা দিন আশুলিয়ার প্রিয়াঙ্কা শুটিং স্পটে সোহানুর রহমান সোহান ভাইয়ের ‘কথা দাও সাথী হবে’ ছবির কাজ করলাম। কাজ শেষে শাকিব বলল, তোমার সঙ্গে জরুরি কথা আছে, সন্ধ্যায় অবশ্যই দেখা করতে হবে। তার মুখ থেকে যে কথাটি শোনার জন্য এতদিন অধীর হয়ে ছিলাম মনে হলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ বুঝি আজ এসে গেল। শুটিংয়ের সময় মা থাকতেন আমার সঙ্গে। মার কাছ থেকে লুকিয়ে দেখা করতে গেলাম শাকিবের সঙ্গে। তার কালো হ্যারিয়ার গাড়িতে চড়ে আশুলিয়ার পথ ধরে এগিয়ে চলেছি আমরা। আর আমার হৃদকম্পনের মাত্রা বেড়েই চলছে। এ কথা সে কথা বলতে বলতে এক সময় ও বলল আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই এবং তা আগামীকালই। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পাওয়ার আনন্দে মনটা আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে নেচে উঠল। নিঃসংকোচে তার হাতে হাত রাখলাম। শাকিব বুকে টেনে নিল আমাকে। আমরা দুজন মুহূর্তেই এক হয়ে গেলাম। মনে হলো এ বাঁধন কখনো যাবে না ছিঁড়ে। এমন সরল প্রাপ্তির আনন্দে প্রথমে কৃতজ্ঞতা জানালাম সৃষ্টিকর্তাকে। তারপর হাজির হলাম মিরপুরের শাহ আলী মাজারে। সেখান থেকে দোয়া নিয়ে নতুন দিনের মহানন্দে চলে গেলাম যার যার বাড়িতে।

অত:পর বিয়ের বাদ্যি বেজেই উঠলো
১৮ এপ্রিল শুক্রবার। সকাল থেকে অন্যরকম উত্তেজনায় কাঁপছি আমি। আনন্দ আর নতুন জীবনে পা রাখার উত্তেজনা এটি। আমার বাসা তখন মিরপুরে। আমার বড় বোন আমার বন্ধুর মতো। সুখ-দুঃখসহ সবকিছুই তার সঙ্গে শেয়ার করা যায় নিঃসংকোচে। বোনকে বললাম পারলারে যাব, আমার সঙ্গে যেতে হবে। মা শুনে বললেন— কখনো পারলারে যেতে কাউকে তোমার প্রয়োজন হয় না। আজ কেন ওকে ডাকছ? কিছু বললাম না। বোন আমার সঙ্গে যেতে রাজি হলো। সঙ্গে জামাইবাবু মানে দুলাভাইও সাথী হলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় ঘর থেকে বের হলাম। যেতে যেতে গাড়িতে বোন আর জামাই বাবুকে আসল কথা বললাম। বোন তো রেগেমেগে আগুন। তার কথায় এটা কিছুতেই সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় বাধা হলো ধর্ম। অনেক কেঁদে কেটে বোনকে বোঝালাম। শেষ পর্যন্ত ওর মন গলল। পথে বসুন্ধরা শপিংমলের সামনে থেকে প্রযোজক মামুনুজ্জামান মামুনকে গাড়িতে তুলে নিলাম। তার হাতে দুটি মালা। দিদি ডায়মন্ডের একটি ফিঙ্গার রিং কিনে নিলেন শাকিবের জন্য। শাকিবের গুলশানের বাসায় এসে হাজির হলাম। এখানেই বিয়ে হবে আমাদের।
অপু আরো বলেন, বাসা থেকে শার্ট প্যান্ট পরেই বিয়ে করতে রওনা দেই। মামুন মালা ও শাকিবের পক্ষ থেকে আনা একটি ডায়মন্ড ফিঙ্গার রিং শাকিবের হাতে তুলে দেন। শাকিব নিজেই পছন্দ করে নজরকাড়া লেহেঙ্গা কিনে রাখে। সেই লেহেঙ্গা পরেই বিয়ে করলাম আমি। শাকিবের পরনে ছিল সাধারণ পায়জামা পাঞ্জাবি। বিকাল সাড়ে ৩টায় বিয়ে পড়ানো হলো।
শাকিবের চাচাতো ভাই মনির শাকিবের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ থেকে কাজী নিয়ে এলেন। বিয়ে পড়াতে গিয়ে কাজী বললেন ধর্ম আর নাম পাল্টাতে হবে। ধর্ম পাল্টালাম। এবার নামের পালা। সবাই কী যেন একটা নাম ঠিক করলেন। আমি বললাম অপু নামটি পাল্টাতে পারব না। কারণ এটি আমার দাদুর দেওয়া আদরের নাম। ঠিক হলো অপু নামটি রেখে এর সঙ্গে ইসলাম আর খান যোগ করা হবে। অপু বিশ্বাস থেকে হয়ে গেলাম অপু ইসলাম খান। বিয়েতে উকিল বাবা হলেন প্রযোজক মামুন। আর মনির সাক্ষী। শুরু হলো আমার গোপন আর নতুন পরিচয় মিসেস শাকিব খান।


প্রসঙ্গ মা-বাবা
বিয়ের পর অপু যখন বাসায় ফিরলেন, তখন মা হঠাৎ বলে বসলেন ‘কিরে তোকে আজ অন্যরকম লাগছে কেন? মনে হচ্ছে না তুই সেই চেনা অপু’। অপু তখন চমকে উঠেন। বুঝলেন মায়ের মন বলে কথা। তাকে ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব। তারপরেও সত্যি ঘটনা চেপে গেলেন অপু।
বেশ কয়েক মাস পর বোন প্রথমে বাবাকে জানালেন। আমার বাবা খুবই সহজ-সরল চুপচাপ স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি বললেন মেয়ের সুখই আমার সুখ। ও যদি মনে করে এই বিয়েতে সে সুখী হবে আমার বলার কিছু নেই। মাকে যখন জানানো হলো মাতো খেপে অগ্নিমূর্তি ধারণ করলেন। আমাকে মারধরও করলেন। বললেন যখন মা হবি বুঝতে পারবি সন্তানের জন্য মায়ের আদর কী জিনিস। এক সময় মা বিয়েটা মেনে নিলেন।

বিয়ের পার্টিও হয়েছিল গোপনে!
রঙধনুর সঙ্গে আলাপে বিয়ের পার্টির কথাও জানিয়েছেন অপু। বিয়ের এক বছর পর মিরপুরে আমার বাসায় বিয়ের পার্টির আয়োজন করা হলো। পার্টিতে শাকিবের মা-বাবা, আমার মা, বোন, ভগ্নিপতি আর কাকুসহ কাছের মানুষরা উপস্থিত হলেন। শাকিবের বাবা আমার মায়ের হাতের রান্না খুবই পছন্দ করতেন। তাই পার্টির খাবার রান্না করলেন মা।

সংসারের সেই জ্বলজ্বলে স্মৃতি
আমি কিছুদিন নিজের বাসা আর কিছুদিন শাকিবের বাসায় থাকতাম। শাকিবের বাসায় ঢুকতে গেলে কেউ যেন দেখে না ফেলে সে জন্য অনেক রাতে যেতাম। অথবা বোরকা পরে তার বাসায় ঢুকতাম আর বের হতাম। এভাবেই চলত আমাদের টোনাটুনির সংসার জীবন।

অপুর যত দু:খ
শাকিবের সঙ্গে বিয়ে বিষয়ে অপুর বেশ কিছু দু:খ আছে। অপু বলেন, বিয়ে তো একবারই হয়। হানিমুনও একবার। কিন্তু ছবির কাজের চাপে হানিমুনের মধুর স্মৃতি থেকে বঞ্চিত হলাম আমরা। এই দুঃখ কোনোদিনই ভুলতে পারব না।
আমার দুঃখ এখানেই শেষ নয়। বাচ্চা গর্ভে আসার পর থেকে জন্মদান পর্যন্ত যে আনন্দ থাকে একটি মেয়ের জীবনে তাও উপভোগ করতে পারিনি। একদিকে দর্শকের জন্য আত্মত্যাগ অন্যদিকে শাকিবের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে একাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, সিজারিয়ানের সময় হাসপাতালের বন্ডে নিজেই সাইন করা এসব কষ্ট কখনই মন থেকে মুছে ফেলতে পারব না। তারপরেও বলব শাকিব আমার স্বামী, আমাদের সন্তানের বাবা আর চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক। সবার সংসারে ভুল বোঝাবুঝি হয়। আমাদেরও হয়েছে। তাই বলে কেউ তাকে ভুল বুঝবেন না। আমরা আবার একসঙ্গে কাজ করব। সবাই আগের মতোই আমাদের ভালোবাসবেন আর দোয়া করবেন।

অপুর সেই ইন্টারভিউ

১০ এপ্রিল ২০১৭। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর বেসরকারি একটি টেলিভিশনে সন্তান নিয়ে হাজির হন অপু। নিজের আর সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ের অপু। চলুন দেখে নেয়া যাক সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বকাংশ।

কেমন আছেন আপনি?
যেমনই থাকি না কেন ভালো থাকার ভান করতে হয়। এরপরও যেমন আছি তাকে খারাপ বলব না। দিন চলে যাচ্ছে কোনো রকম।

আপনি মাঝখানে হারিয়ে গিয়েছিলেন। নানা মাধ্যমে নানা রকম খবর বেরিয়েছিল?
আমি আসলে হারিয়ে যাইনি। আমি ছিলাম, আছি, থাকব। তবে এটা ঠিক যে, আমি মাঝখানে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলাম। আপনাদের সঙ্গে কিন্তু আগেই বলেছিলাম যে, আমি আড়াল ভাঙব।

কেন আপনার এই আড়ালে চলে যাওয়া?
আসলে কারণটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক। সে কারণে এত দিন আড়ালে ছিলাম এবং মুখ খুলিনি।

কিন্তু দর্শক আপনার কাছ থেকে সেই কারণ শোনার জন্য মুখিয়ে আছে। তা ছাড়া অনেকে অনেক রকম কথাও বলছে। এর জবাব নিশ্চয়ই আপনার কাছে আছে?
হ্যাঁ। সব প্রশ্ন আর সবকিছুর জবাব আমার কাছে আছে। কিন্তু ব্যক্তিগত আর পারিবারিক হওয়ার কারণে আমি কাউকে কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু এখন আর চুপ থাকব না। আমি পুড়তে পুড়তে একেবারে ছাই হয়ে গেছি। আমিও একটা মানুষ। আমি তো বেশি কিছু চাইনি, কেবল আমার নিজের এবং সন্তানের স্বীকৃতি চেয়েছি।

আপনি বিবাহিত? কে আপনার সন্তানের পিতা?
জি। আমি বিবাহিত। আমি শাকিব খানের স্ত্রী। আর আমার সন্তান আবরাম খান জয়ের পিতাও শাকিব।

কিন্তু এত দিন কেন আপনি এসব বলেননি?
শাকিব খানের সম্মান এবং ক্যারিয়ারের স্বার্থে। তিনি বার বার আমাকে অপেক্ষা করিয়েছেন। বিয়ের ৯ বছর পরও আমি আমার স্বীকৃতি পাইনি। আর এখন তো আমি আর একা নই। এখন আমার একটা সন্তান আছে। তার জন্য অন্তত সুবিচার পেতে পারি আমি।

আর আপনার ক্যারিয়ার?
আমি আমার ক্যারিয়ারের কথা কখনই ভাবিনি। শাকিবকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। সব সময় ওর ভালো চেয়েছি। কখনই ওর ক্ষতি চাইনি। সে কারণেই নিজের ক্যারিয়ারের কথা না ভেবে আমি আড়ালে ছিলাম। শাকিবের কথা মেনে চলেছি। ফলাফল কী? ফলাফল কেবলই অপমান।

শাকিবের সঙ্গে আপনার বিয়ে ও সম্পর্কটা জানতে চাই।
শাকিব খানের সঙ্গে বন্ধু থেকে সম্পর্কটা অনেক দূর গড়িয়েছে। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল বিয়ে করি। তবে মিডিয়ার মানুষ বলেই বিষয়টি লুকিয়ে রাখি। বিয়ে হয়েছে শাকিব খানের বাসাতেই। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে কাজী এখানকার ছিলেন না। কাজী এসেছিলেন শাকিবের বাড়ি গোপালগঞ্জ থেকে। তার নাম মুজিবুর। শাকিব, আমি, আমার মেজো বোন, একজন প্রডিউসার মামুন ছিলেন, আমার ভাই ও শাকিবের ভাই মুনীর ছিল। বিয়ের সময় নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় অপু ইসলাম খান। তবে আমি নায়িকা হওয়ার কারণে আমার ওই নামটি ব্যবহার করা হয়নি। আমি অপু বিশ্বাসই থেকে গেছি। ভবিষ্যতেও আমি এই নামেই থাকতে চাই। আমার মা-বাবার দেওয়া নাম ধরে রাখতে চাই।

আপনি কি কাজে ফিরবেন?
আমি একটু মুটিয়ে গেছি। তাই কাজে ফিরছি না। ডায়েট, এক্সারসাইজ দুটোই চলছে। তা ছাড়া যখন আড়ালে ছিলাম তখন কোনো বিজনেস করতে পারিনি। কোনো কাজেই আমি ছিলাম না। শুধু নিজের প্রতি খেয়াল রেখেছি।

কোথায় ছিলেন এত দিন?
এই দশ মাসে ঢাকা, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এবং কলকাতায় ছিলাম। কলকাতায় ৫-৬ মাস আমার রিলেটিভের বাসায় ছিলাম। এর মাঝে শাকিব কলকাতায় গেলেও আমার সঙ্গে দেখা করেনি। কথা বলেনি। মানুষ নিজেকে ঠকাতে পারে, কিন্তু নিজের জনকে ঠকাতে পারে না। আমি আসছি সে জন্য। আমি এই দশ মাস অনেক স্ট্রাগল করেছি। অনেক কষ্ট পেয়েছি।

কী ধরনের স্ট্রাগল করেছেন?
আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। কেবল এটুকু বলতে চাই— একটা মানুষের ধৈর্য, স্ট্রাগল কতটুকু হতে পারে? আমার যুদ্ধটা সব ছাপিয়ে গেছে। আমি তো জন্ম নিয়েছি মানুষ হিসেবে, অমানুষ হিসেবে তো জন্ম নিইনি। আমি তো মানুষের ভালো করতে চেয়েছি। একটা মেয়ে কতটা কষ্ট করতে পারে, আমি অনেক কষ্ট করেছি। আজ দশ মাসের ফল, কারও কাছে ছোট হয়ে যাব। আমাকে ছোট করা হবে এটা কাম্য ছিল না। আজকে আমার সবকিছু জীবন দিয়ে আগলে রাখছি। তার বিনিময়ে সম্মান চেয়েছি আর তো কিছু চাইনি। [কান্নায় ভেঙে পড়েন অপু। নিজেকে সামলে নিয়ে আবার বলেন]

শাকিব আর আমার একটি ছেলে আছে। সে বাচ্চাকে আমি অনেক কষ্ট করে জন্ম দিয়েছি। শাকিব আমার পাশে ছিল না। টাকা দিয়েছে, কিন্তু আমার কাছে থাকেনি। কোনো মানুষ শুধু টাকা দিলেই সব হয়ে গেল না। আমার বাচ্চা জন্মানোর সময় চেয়েছিলাম, একবার শাকিবের সঙ্গে হ্যালো বলি। তাও পারিনি। আমি কী অন্যায় করেছিলাম, আমি তো তার ভালো চাই। এখনো চাই। চেয়ে আসছি। ওর মা আছে, বোন আছে। তারাও মেয়ে। তারা কি এটা মানতে পারত। তাদের জিজ্ঞেস করুক তারা এমন কষ্ট করে কিনা। আমার কী অন্যায়, আমি নায়িকা? শাকিবকে অনেক সাপোর্ট করেছি, এটা আমার অন্যায়? আমি দশ মাস আড়ালে গেছি, আমাকে নিয়ে অনেক বিদ্রূপ হয়েছে। কিছুই গায়ে লাগাইনি। আমি জানি, আমার শাকিবকে ঠিক রাখতে হবে।

আমাকে প্রতিনিয়ত ঠকিয়ে গেছে। কেন, আমি তো কাউকে ঠকাইনি। আমাকে বলেছে লুকিয়ে রাখ। আমি লুকিয়ে রেখেছি। আমার প্রেগন্যান্ট অবস্থা লুকিয়ে রাখতে বলেছে, আমি রেখেছি। আমার প্রাণের ছবি বসগিরি, সে ছবি ছেড়ে গেছি এক মুহূর্তে। আমি টুঁ শব্দ করিনি। ঢাকায় আসছি ৫ মাস হয়ে যাচ্ছে। কেউ বলতে পারবে না আমি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তবু কেন শাকিব আমাকে ছোট করবে। আমি তো তাকে ছোট করিনি। চেষ্টাও করিনি। যে শাকিব খানকে আমি সাপোর্ট করে গেছি, সে আমাকে কেন ছোট করবে? কী অন্যায় করেছি। আমি তো সাপোর্ট দিয়ে গেছি।

আমি চেয়েছি শাকিবের ক্যারিয়ার ভালো হোক, তাই বিয়ের কথা কাউকে বলিনি। কিন্তু আমাকে ছোট করে না। আমি আমার ক্যারিয়ারের কথা চিন্তাও করিনি। আমি চেয়েছি ও ভালো থাকলে আমি ভালো থাকব। আমি যার ভালো চাচ্ছি সে আমায় ছোট করে দিয়েছে। আমি ৮০টা সিনেমা করেছি, আমাকেও তো মানুষ জানে। অথচ আমাকে কেন ছোট করা হলো। এখন যদি সে বলে তুমি ছোট হওনি। কিছুদিন আগেও তো কত নিউজ হয়েছে। তারপরও এই বিষয়টা ছোট হওয়ার মতো না? শাকিবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আমার যেহেতু সন্তান আছে, তাকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই। আমি অন্যায়কারী, একটা সন্তান তো অন্যায়কারী না। তার মর্যাদা আমি মা হয়ে দিতে চাই।

যখন সন্তান হয় তখন শাকিব কোথায় ছিলেন?
তখন শাকিব শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিল। বাচ্চা হয় দেশের বাইরে। সে ছিল দেশে। আমাদের দেখতেও যায়নি। বাংলাদেশে আসার পর দেখতে গেছে। এটা বিষয় না। আমি কখনই তার কাছ থেকে ম্যান্টাল সাপোর্ট পাইনি।

শাকিব বাচ্চাকে দেখতে যায়নি?
গিয়েছে। বাচ্চাকে দেখত, আদর করত, কিন্তু সেটা ঘরের মধ্যে। বাইরে না। তাকে প্রকাশ্যে আনতে পারিনি। এ ব্যাপারটি নিয়ে আমি অনেক সহ্য করেছি। আমার সঙ্গে আর দশটি মেয়েকে মিলিয়ে দেখেন আর কত সহ্য করব। ওর বোন আছে সেকি করবে? আমাকে উত্তর দিক। কেউ করবে না।

আপনার এবং শাকিব খানের বাচ্চা আপনি বলছেন… নাম কী ওর?
আবরাম খান জয়।

তাহলে আপনার সঙ্গে শাকিবের সম্পর্কটা ভালো নয়?
বলতে পারেন। কদিন আগে আমাকে ও একজন হিরোইনকে নিয়ে একটা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বিতর্কে আমি তাকে বলেছিলাম, একটা জুনিয়র আর্টিস্ট আমাকে নিয়ে কথা বলবে আর তুমি সেখানে চুপ করে থাকবে! সে সেটার বিষয়ে খেয়াল রাখেনি। তার মানে সে আমাকে সম্মান করেনি। আমি ছোট হচ্ছি না কোথাও বড় হচ্ছি সেই দিকটা ওর খেয়াল রাখা উচিত।

অপু আপনি বিয়ে গোপন করেছেন। আমরা জানি চলচ্চিত্রের অনেক তারকা অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে চান। তারা মনে করেন এটা তাদের ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলবে। আপনি হয়তো সে জন্য বিয়ের ব্যাপারটি গোপন রেখে গেছেন। কিন্তু আপনার বাচ্চা হওয়ার পরও কেন আপনি বিষয়টি গোপন করে গেলেন?
আগেও বলেছি, আবারও বলছি। শুধু ওর জন্য। শাকিবের যেন ক্যারিয়ারে কোনো প্রবলেম না হয়। ওর ভালোটা আমি চেয়েছি। কিন্তু ও আমাকে ছোট করে দিয়েছে।

শাকিব আপনাকে না করেছেন?
ওর না করা থেকে বড় কথা আমিই চাইনি ওর কোনো প্রবলেম হোক। আমি এখনো চাই না ওর প্রবলেম হোক। কিন্তু যখন মানুষ অনেক ছোট হয়ে যায় না! তখন তাকে তো ভালো করতে হবে। আজকে আমার ছোট হওয়ার পেছনে তো এই বাচ্চাটা আছে। আপনি দেখেন এই ছোট বাচ্চাটা কী অপরাধ করেছে? এক দিন তো শাকিব অনেক ছোট ছিল। ওর বাবার কোলে ছিল। সামাজিক মর্যাদা পেয়েছে। তাহলে এই বাচ্চাটার সামাজিক মর্যাদা পেতে দোষ কোথায়!

সবার কাছে আমার একটাই চাওয়া, সবাই যেন আমার সন্তানের জন্য দোয়া করে। ও যেন অনেক ভালো থাকতে পারে। ও যেন মানুষের মতো মানুষ হতে পারে। আমি যেন ওকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। আমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছি। অনেক অপমানিত, লাঞ্ছিত হয়েছি। আমি কোনো দিন মুখ ফুটে বলিনি। আমি আজকেও বলতে চাইনি।

আমার ছেলে এখনো কিছু বোঝে না। ওকে কোনোভাবে ঠকানো যাবে না। আমি আশা করব ও বাবা হয়ে যেন ওকে না ঠকায়। এখান থেকে শাকিবের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে।

আপনি বলছেন আপনাকে অনেক অপমান করা হয়েছে, আপনাকে অনেক টর্চার করা হয়েছে। আপনাকে কেমন করে টর্চার করা হতো।
এটা আসলে আমাদের দুজনের ব্যাপার। সেটা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কিন্তু আমি তো এত বছর ওকে হেল্প করেছি। ও কেন এর দাম দিল না। ও আজকেও আমাকে হেল্প করতে পারত। আজকে আমাকে ছোট না করলেই পারত।

শাকিব খান শেষ কবে এসেছিলেন আপনার সন্তানকে দেখার জন্য।
গত পরশু রাতে।

কী বলেন শাকিব?
আসল, ওকে আদর করে গেল। ওকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে গেছে।

শুধু টাকা দেওয়া বা খরচ দিয়ে কি একজন বাবার দায়িত্ব শেষ? এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?
এটা আমারও প্রশ্ন।

আপনি তাকে সেই প্রশ্ন করেননি? কেন বাবার দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না?
তার আশপাশে তো অনেক লোক আছে। তারাও তো বাবা, তারা রাত শেষে তাদের ছেলেকে নিয়ে ঘুমায়। তার আশপাশে আছে না এমন লোক। তার বোন, বিবাহিত জীবন পার করছে। সে কি তার স্বামীকে নিয়ে সংসার করছে না? তার সন্তান তো তার বাবার কাছে থাকে। আমি কেন শাকিবের বউ হয়েও দূরে। আমি কেন সন্তান পেটে নিয়েও দূরে। যখন আমি ডক্টরের কাছে সিজার রুমে গিয়েছিলাম আমি নিজে বন্ড সই করেছিলাম। ডাক্তার বলেন, ৩৫ বছরের ক্যারিয়ারে এমন কোনো রোগী দেখিনি যে, নিজের সিজারে নিজেই বন্ড সই করেছেন। আমার কী অপরাধ ছিল? আজকে আমাকে এতটা শাস্তি পেতে হলো। আমি তো মানুষ। আমি আর কত দিন বাঁচব? আমার কী কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই? শুধু টাকা দিয়েই কী মানুষের সেবা হয়ে যায়? কিছুদিন আগে শাকিব অসুস্থ, এখনো জ্বর। ওর বাসা থেকে জানানো হয়েছে ওর নাকি ভ্যাকসিনের জ্বর। কিন্তু আমার বাচ্চার এখনো জ্বর। এর কী কোনো মূল্য নেই।

আপনি শাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না, এটা কারা বলে?
ওর পরিবারে সদস্য আছে, তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়।

আপনি সরাসরি কথা বলেননি?
আমি বলেছি। কিন্তু বেশ কয়েক দিন আগের বাকবিতণ্ডার পর তার সঙ্গে আর আমার কথা বলা হয়নি।

বাসায় যখন আসে বাচ্চা দেখতে তখন কথা বলেন না?
তখন ও দেখে তার বাচ্চাকে। আদর করে। কী বলার আছে!

আপনার সঙ্গে কথা বলেনি।
না ওইভাবে কথা বলা হয় না। আসলে একটা মেয়ে এভাবে সিচুয়েশন ক্রিয়েট করে যখন বাচ্চা নিয়ে আসে সেই মেয়ে কী কখনো তার সঙ্গে কথা বলতে চায়!

মানে আপনি তার ওপর রাগ করে আছেন।
আমার অনেক বলা হয়ে গেছে। আমার আর বলার ভাষা নেই।

আপনার কী মনে হয় না, আপনি অনেক বেশি ছাড় দিয়ে ফেলেছেন?
আমি এখন বুঝতে পারছি, এসব আমার আরও আগে করা উচিত ছিল। এটা আমি বুঝেছি। আমি ছাড় দিয়েছি কিন্তু আমার বাচ্চার জন্য আমি আর ছাড় দিতে রাজি নই। আমার ঠকের পাল্লা অনেক ভারী হয়ে গেছে। কিন্তু আমি আমার সন্তানের অধিকার নষ্ট করতে চাই না। আমি আসলে ধৈর্য ধরতে ধরতে নিজেও জানি না কতটা সীমায় আমি চলে গিয়েছিলাম।

শাকিব খানের যে পরিবারের কথা বলছিলেন, সেই পরিবার থেকে আপনার ও আপনার সন্তানের ব্যাপারে তাদের বক্তব্য কী?
আমাকে ও আমার বাচ্চাকে নিয়ে তারা পজিটিভ।


তাদের কোনো বক্তব্যে শাকিব খানের কিছু যায় আসে?
তারা শাকিবের কাছে কোনো বক্তব্য পেশ করেন না। হয়তো তারা শাকিবকে ভয় পান। কিংবা শাকিবকে তারা এড়িয়ে যান।

হঠাৎ কী এমন হলো যে আপনি এত রেগে গেলেন?
আমি আসলে সহ্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি। শাকিব আমাকে স্ত্রীর সম্মান দেয়নি। আবার বাইরেও কোনো সম্মান দিচ্ছে না। সে আমাকে কথা দিয়েছে যে বুবলির সঙ্গে শাকিব কাজ করবে না। কারণ সে অপুর সঙ্গে মিসবিহেভ করেছে। তখন হয়তো আমাকে ম্যানেজ করার জন্য এটা করেছে। এখন আবার পাল্টে গেছে। এত অসম্মান আমি কীভাবে সহ্য করব?

এখন আপনার চাওয়া কী?
আমি কেবল আমার আর আমার সন্তানের স্বীকৃতি চাই। আমি কোনো বিতর্ক চাই না। আমার অসহায়ত্ব আর নিরুপায় হওয়ার গল্পটাই বলতে চেয়েছি। কাউকে হেয় বা ছোট করতে চাইনি। এত দিন ধরে যে সত্যটা লুকিয়ে রেখেছিলাম, আজ আমার কাছে মনে হয়েছে সেটি সবার কাছে প্রকাশ করা দরকার। সে কারণেই আমি বলেছি। এখানে আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। আমি এখনো শাকিবের ভালো চাই।

চলচ্চিত্রে ফিরবেন?
সব ঠিক থাকলে অবশ্যই ফিরব। আমি যেহেতু ফিট হচ্ছি, ভবিষ্যৎ কামব্যাক করতে চাইব। ভালোভাবে কাজ করব। আর দর্শকদের কাছে দোয়া চাই আমি যেন বাচ্চাটাকে মানুষের মতো মানুষ করতে পারি। আমার তো ছেলে, ওর দ্বারা যেন কেউ প্রতারিত না হয়। এটা আমি ওকে শেখাব।

কত দিনের মধ্যে ফেরার আশা?
আমি আর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ফিট হব ভাবছি। তখন পুরনো কাজে ফিরব। নতুন বিষয় নিয়ে কথা বললে সেটা নিয়ে কাজ করব। নতুন একটা সিনেমার কথা হচ্ছিল, জানি না সেটার কী হবে।

এর মধ্যেই শাকিব বলেছেন তিনি সন্তানের দায়িত্ব নেবেন। আপনার নয়। এ বিষয়ে আপনার কী ভাষ্য?
আমার সন্তানের দায়িত্ব নিলেই আমি খুশি। আমার দায়িত্ব নিক, এটা আমি তার কাছে আশাও করি না।

পাঠকদের উদ্দেশে কিছু বলার আছে?
নিজের জন্য এবং আমার সন্তানের জন্য দোয়া চাই। দর্শকের দোয়া ও ভালোবাসা থাকলে আমি আবার ফিরব তাদের প্রিয় অপু বিশ্বাস হয়ে।
[সাক্ষাৎকারে ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিলের প্রেক্ষাপট ও পটভূমি অবিকল রাখা হয়েছে]

ডিভোর্সে শেষ সেই অধ্যায়
শেষ পর্যন্ত কোনোভাবেই টেকানো গেল না শাকিব-অপুর সংসার। শাকিব বারবারই বলেছেন কোনোমতেই আর অপুর সঙ্গে সম্বপর্ক টিকিয়ে রাখতে চান না তিনি। অন্যদিকে অপুর বক্তব্য ছিল শাকিবকে ভুল বোঝানো হয়েছে। তিনি শাকিবের সঙ্গেই থাকতে চান।

আজ সিটি কর্পোরেশনের সালিশে দ্বিতীয় দফা যাওয়ার কথা শাকিব-অপুর। প্রথম দফায় অপু গেলেও শাকিব যাননি। তখন শাকিবের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ১১ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকালে অপু বিশ্বাস বলেছিলেন, ‘শাকিব যা ভালো মনে করেছে, সেই সিদ্বান্তই গ্রহণ করেছে। তার তো স্বাধীনভাবে সিদ্বান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।’
এর আগে শাকিব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে শ্রদ্ধা থাকতে হবে। আমি মনে করি, তা এখন আর অবশিষ্ট নেই। তবে আব্রামের ভালোর জন্য আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ওকে ভালো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা, ওকে ভালো রাখা, ওকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে সব ধরনের সাপোর্ট দেবো।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পারিবারিক আদালত সূত্রে জানা গেছে, কোনো পক্ষ তালাকের আবেদন করলে আদালতের কাজ হচ্ছে ৯০ দিনের মধ্যে উভয়কে তিনবার ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করা। সে হিসেবে প্রথম তারিখ ছিল ১৫ জানুয়ারি। এরপর সালিশের নতুন তারিখ ধার্য করা হয় ১২ ফেব্রুয়ারি।
এ নিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আজতো হাজিরা দেওয়ার তারিখ ছিল। এখন মনে হচ্ছে, গিয়ে আর কোনো লাভ নেই। আমি তো একবার গিয়েছি, তখন তাদের কোনো রেসপন্স পাইনি! আর প্রত্যেকটা মানুষকে কিছু না কিছু আকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে হয়, আমার এখন একটাই অবলম্বন আব্রাম। যেহেতু আব্রাম আছে, সময়ের ব্যাপ্তিকালে নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়ে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
গত বছরের ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় শাকিব খান তার আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলামের কার্যালয়ে যান। তার সহায়তায় অপু বিশ্বাসের ঠিকানায় তালাকের নোটিশ পাঠান শাকিব।

শেখ সিরাজুল ইসলাম জানান, আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকর হওয়ার পর অপু বিশ্বাসকে বিয়ের দেনমোহর বাবদ সাত লাখ টাকা পরিশোধ করবেন শাকিব। আর ছেলের খরচ বাবদ এখন প্রতি মাসে অপুকে এক লাখ প্রদান করবেন।

সম্পর্কের টানাপোড়েনে শাকিব খানের সঙ্গ পাচ্ছে না আব্রাম। প্রায় তিন মাস ধরে বাবার মুখ দেখেনি সে। এখন শাকিব বলছেন, ‘আব্রামের ভালোর জন্য আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব’। এ বিষয়ে প্রসঙ্গ টেনে অপু বলেন, ‘তালাক নোটিশ পাঠানোর পর প্রায় তিন মাস জয়ের সঙ্গে দেখা কিংবা ওভাবে জয়ের কোনো ধরনের খোঁজ নেয়নি শাকিব। এরপর তিনি ঠিক কী ধরনের খোঁজ-খবর রাখবেন কিংবা টেক-কেয়ার করবেন সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন!’

পেশাগত কাজে ধীরে ধীরে ব্যস্ত হচ্ছেন অপু বিশ্বাসও। বেশ কয়েকটি বড় বাজেট ও ভালো মানের সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে কথাবার্তাও চলছে। ১৭ বছর পর ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ ছবির সিক্যুয়াল নির্মাণ করার ঘোষণা দেন পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস। সেই সিক্যুয়ালে নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন অপু।

অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমাকে তো এ শহরে সারভাইভ করতে হবে। এর জন্য কাজের কোনো বিকল্প নেই। আর আমি যেহেতু অভিনয় ছাড়া অন্য কোনো কিছুকে পেশা হিসেবে নিইনি, তাই এটাকে অবলম্বন করেই বাকিটা জীবন বেঁচে থাকতে চাই।’
আসছে ২২ ফেব্রুয়ারি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের তালাক কার্যকর হচ্ছে। এরপর থেকে তারা হয়ে যাবেন ‘সাবেক দম্পতি’।

শাকিব খান এখন আশিকুর রহমান পরিচালিত ‘সুপার হিরো’ ছবির কাজে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থান করছেন। অ্যাকশন-থ্রিলার ধাঁচের গল্পে নির্মিত ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন শবনম বুবলি। আসছে ১৭ কিংবা ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ফিরবেন তিনি। এরপরই শুটিংয়ের কাজে যাবেন ভারতে যাবেন। সেখান থেকে স্কটল্যান্ডে।

২০০৬ সালে পরিচালক এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন অপু। সেই বছর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই জুটি একাধারে ৭০টির মতো ছবিতে অভিনয় করেন। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এক সময় প্রেমের সম্পর্ক হয় তাদের। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল গোপনে বিয়ে করেন এই জুটি।

ভারতের কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় শাকিব-অপুর ছেলে আব্রাম খান জয়ের।
গত বছরের শুরুর দিকে শবনম বুবলির সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে একটি স্থির চিত্রে শাকিব খানকে দেখা যায়। ছবিতে ‘ফ্যামিলি টাইম’ ক্যাপশন লিখে নিজের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন বুবলি। এরপরই অপু বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে শাকিব খানের। এরপর একই বছরের ১০ এপ্রিল বিকেল চারটায় দীর্ঘদিন গোপনে থাকা বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন অপু। দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সব গোপন কথা ফাঁস করে দেন। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন দিনকে দিন বাড়তে থাকে। যা শেষমেষ গড়ায় ডিভোর্সে।

[পুরো স্টোরিটি একটি কম্পাইল্ড স্টোরি। বিভিন্ন সময়ের কথোপকথন ও ঘটনা এখানে একত্রে বর্ণিত হয়েছে।]

অারো পড়ুন………..